এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ: প্রধান উপদেষ্টা
প্রকাশিত:
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৫
আপডেট:
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:২০
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অতীতে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না। তবে এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি, দেশ প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে।
আজ সোমবার সকালে সচিবদের সঙ্গে গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং পরে সচিবদের সঙ্গে ছবি তোলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে। এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা থাকলেও এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ভূমিকা আরও সুসংহত ও মর্যাদাপূর্ণ হয়েছে। এখন থেকে তারা দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটাররা কীভাবে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা নির্বাচনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন বন্ধু হটলাইন ৩৩৩ চালু করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে এবং দেশে আর অপশাসন ফিরে আসবে না। সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে তারা এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাঁর মতে, শেখ হাসিনার সময়ে অনুষ্ঠিত আগের তিনটি নির্বাচনের কোনো বৈধতা ছিল না এবং সে সময় উল্লেখযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকও আসেননি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে তেমন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।
সচিবদের ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত ১৮ মাসে তাঁরা যে কাজ করেছেন, তা প্রশংসনীয়। প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নে সচিবরা সহযোগিতামূলক ভূমিকা রেখেছেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সামনে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে কারখানা স্থাপন করবেন। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী একটি বড় সম্পদ, যা ভবিষ্যতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবেন।
সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: