রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে মিয়ানমারের উপস্থাপনকে বাংলাদেশের ‘প্রত্যাখান’
প্রকাশিত:
২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১০:২৩
আপডেট:
২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:০২
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে মিয়ানমারের উপস্থাপনকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী আখ্যা দেওয়া এবং রাখাইনে ‘রোহিঙ্গা নির্মূল’ অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে নায্যতা দিতেই এ ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে মিয়ানমার। একইসঙ্গে ২০১৬-১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতা ও গণহত্যার ঘটনাকে আড়াল করা বা মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করছে মিয়ানমার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী, যা আরাকান অঞ্চলে শতাব্দীজুড়ে বিকশিত হয়েছে। ১৭৮৫ সালে বার্মা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার আগ থেকেই সেখানে তাদের বসবাস। ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটির উৎপত্তি ঐতিহাসিকভাবে আরাকানের প্রাচীন রাজধানী ম্রো-হাউং (রোহাং) থেকে। ঐতিহাসিকভাবেই রোহিঙ্গাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিকড় আরাকান রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত, যা বর্তমানে রাখাইন নামে পরিচিত।
জাতিগত ও ধর্মীয় কারণে ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন পাস করে তাদের বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তাদের ভোটাধিকার বাতিল করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নিজস্ব পরিচিতি ও জাতিগত অধিকারকে অস্বীকার করতেই রোহিঙ্গাদেরকে ‘বাঙালি’ বলছে মিয়ানমার। এটা তাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ।
জাতিগত, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য এমনকি ভাষাগত জায়গায় চট্টগ্রামের সাথে কিছুটা মিল থাকলেও রোহিঙ্গারা সম্পূর্ণ আলাদা একটি জাতিগত গোষ্ঠী, বলে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য রাখাইনে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সে সঙ্গে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিলো—মিয়ানমারের এমন দাবিরও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এ ধরনের বক্তব্যের পক্ষে মিয়ানমার কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: