রবিবার, ৪ঠা জানুয়ারী ২০২৬, ২১শে পৌষ ১৪৩২

Shomoy News

Sopno


সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকার নির্দেশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে


প্রকাশিত:
৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:২২

আপডেট:
৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:২৬

ছবি- সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২৯ ডিসেম্বর জারি করা এই আদেশ দেশের সব সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের এই দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য সরকারি অফিস ও সংস্থাগুলো সব ধরনের সহযোগিতা করতে আইনত বাধ্য। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা অত্যাবশ্যক।

নির্বাচনের সময় নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বশর্ত। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করিবার দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা/কর্তৃপক্ষের উপর অর্পিত থাকলেও এই ব্যাপারে স্থানীয় জনসাধারণ এবং নেতাদের সাহায্য ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার এই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসাবে সিটি কর্পোরেশন/জেলা পরিষদ/উপজেলা পরিষদ/পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রেক্ষাপটে দেশের সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় সংসদের এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নিচের দায়িত্ব পালন করবে-

(১) স্ব স্ব এলাকায় আইন-শৃংখলা রক্ষার্থে আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।

(২) নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সময়ে সময়ে যে সব আদেশ/নির্দেশ জারি করেছেন কিংবা করবেন তা প্রতিপালন।

(৩) নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনী মিছিল, সভা ও প্রচারণা যাতে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও বিধি অনুযায়ী হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখা।

(৪) কোনো নির্বাচনী অফিস বা প্রতীক নষ্ট করার যে কোনো প্রচেষ্টারোধে সামাজিক প্রতিরোধ গঠনে সহায়তা করা।

(৫) ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ কিংবা উপজেলা পরিষদে এমন কোন উন্নয়ন স্কিম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে না যা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তিতে বা প্রচারণার পক্ষে ব্যবহৃত হতে পারে।

(৬) ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ কিংবা সিটি কর্পোরেশনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুদান বা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না যা, কোনো প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তি বা প্রচারণার কাজে প্রভাব বিস্তার করবে।

(৭) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো অফিস, যানবাহন এবং অন্যান্য সম্পত্তি কোনো প্রার্থীর নির্বাচন বা প্রচারণার কাজে কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। মাশুল পরিশোধ করেও ব্যক্তিগত কাজে কোন যানবাহন ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

(৮) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী কাজে বা প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

(৯) ভোটকেন্দ্র নির্মাণসহ নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সব কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা প্রয়োজন হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান তা প্রদান করবে।

(১০) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের পদমর্যাদা, সরকারি সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি কোন প্রার্থীর নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করিতে পারবে না।

আদেশে আরও বলা হয়, এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এই আদেশে বর্ণিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বা শৈথিল্য প্রদর্শন করলে কিংবা অবহেলা করলে, ওই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ/আইন/বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই আদেশ জারির তারিখ থেকে নির্বাচনের পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top