ককটেল হামলায় যুবকের মৃত্যু: কয়েক শ’ সিসিটিভি ঘেঁটেও শনাক্ত হয়নি দায়ীরা
প্রকাশিত:
৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:৪২
আপডেট:
৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:১৫
# সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার হলেও তার জড়িত থাকা নিশ্চিত নয়।
# কয়েক শ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও ক্লু মেলেনি।
# ব্যালেস্টিক প্রতিবেদন না পাওয়ায় বিস্ফোরকের ধরন নিয়ে ধোঁয়াশা।
রাজধানীর মগবাজারের নিউ ইস্কাটনে উড়ালসড়ক থেকে ছোঁড়া ককটেলে সিয়াম মজুমদার নামে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হওয়ার নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হলেও তার জড়িত থাকা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের কয়েক শ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা যায়নি।
গত ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে মগবাজার উড়ালসড়ক থেকে ছোঁড়া একটি ককটেলের আঘাতে সিয়াম গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালের নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। নিহত সিয়াম একটি মোটরকার ডেকোরেশন দোকানের কর্মী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলায়।
ঘটনার সময় তার এক সহকর্মী সঙ্গে ছিলেন, যিনি প্রত্যক্ষদর্শী হলেও ককটেলটি কোন দিক থেকে ছোঁড়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা আলী আকবর মজুমদার বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর র্যাব একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তবে ওই ব্যক্তি ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে নিউ ইস্কাটন ও আশপাশের এলাকা থেকে কয়েক শ’ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ফুটেজ ‘চুলচেরা বিশ্লেষণ’ করা হলেও এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্তে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তার পরিচয় জানাননি তিনি।
ফজলুল করিম আরো জানান, আশপাশের সব সক্রিয় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফুটেজে হামলাকারীকে শনাক্ত করা যায়নি।
অন্যদিকে হাতিরঝিল থানার ওসি গোলাম মর্তুজা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা কাউকে গ্রেফতার করিনি। র্যাব গুলশান থেকে একজনকে গ্রেফতার করে আমাদের দিয়েছে। ওই ঘটনায় তিনি জড়িত কিনা তা যাচাই বাছাই চলছে।’
পুলিশ সূত্র জানায়, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের আলামতগুলো সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন। তারা ব্যালেস্টিক পরীক্ষার জন্য কাজ করছেন। তবে এখনো সেই ব্যালেস্টিক প্রতিবেদন হাতে পায়নি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ফলে ঘটনার সময় সিয়ামের ওপর ছোঁড়া বস্তুটি ককটেল নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক ছিল তাও বলতে পারছেন না।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. ইবনে মিজান ঘটনার পর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া দেবনগর গ্রাম থেকে সাড়ে চার বছর আগে সিয়াম ও তার ভাই সেজান ঢাকায় আসেন। প্রথমে তারা একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ নেন। পরিবারটি ঋণগ্রস্ত হওয়ায় পরে বাবা-মাও ঢাকায় চলে আসেন। বাবা আলী আকবর মজুমদার রিকশা চালান এবং মা সিজু বেগম বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। নিউ ইস্কাটনের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তারা।
সিয়ামের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় মামলার সময় থানায় যে মোবাইল নম্বরটি দেওয়া হয়েছিল, সেটিও বর্তমানে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: