তিস্তার পানি হোক আর সীমান্ত হত্যা, পাশাপাশি থাকবে হাসিনাকে ফেরতের ইস্যু
প্রকাশিত:
৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:২০
আপডেট:
৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৪
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতের সঙ্গে দুয়েকটি ইস্যুতে সম্পর্ক আটকে থাকবে না। কারণ, বহুমাত্রিক সম্পর্ক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আছে, ভারতের সঙ্গেও আছে। তিস্তার পানি হোক আর সীমান্ত হত্যা হোক, এগুলো পাশাপাশি থাকবে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার সঙ্গে। একটা তো আরেকটার ওপর নির্ভরশীল না। কাজেই স্বার্থগুলো থেকেই যাবে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি : পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’- শীর্ষক সেশনে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কতদিন লাগবে জানি না। কিন্তু আমরা চাই যে, তাদেরকে ফেরত দেওয়া হোক, যাতে সাজা কার্যকর করা যায়। কিন্তু এটার কারণে বাকি সব আটকে থাকবে, এটা আমি মনে করি না।
বিগত সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উষ্ণ সম্পর্ক ছিল ভারতের সঙ্গে। আপনারা কি এই কথা হলফ করে বলতে পারেন যে, বাংলাদেশের মানুষ এতে খুব সন্তুষ্ট ছিল কি না, যেই পর্যায়ে সম্পর্ক ছিল। আমার কাছে এবং আরও অনেকের কাছে মনে হয়েছে, উষ্ণ সম্পর্ক দুটি সরকারের মাঝে ছিল। জনগণের ভূমিকা সেখানে অনেক কম ছিল। অনেক অভিযোগ থাকলেও তৎকালীন সরকার বিবেচনায় নেয়নি।
উপদেষ্টা বলেন, তিস্তার পানি ও সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা, ক্ষোভ বাংলাদেশের সবার ছিল। ভারতের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্কের যে সরকার ছিল ১৫ বছর, তারা এই দুটোর একটিরও কি কোনো সমাধান করতে পেরেছে? অর্থাৎ এই বাহ্যিক উষ্ণতা কোনো বিষয় না। বিষয় হচ্ছে, আমাদের স্বার্থ উদ্ধার হচ্ছিল কি না, হচ্ছিল না– স্পষ্টতই। কাজেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল, এটা আমি বলতে চাই না। ভারতের সঙ্গে এক ধরনের সম্পর্ক ছিল, গভীর ছিল সরকারের।
সীমান্ত হত্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে যুদ্ধাবস্থা নেই তারপরও গুলি করে মানুষ মারা হয়। পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কোনো সীমান্তে এরকম নেই। এটার কোনো সমাধান আমি আপাতত দেখতে পাচ্ছি না। সীমান্ত হত্যা হচ্ছে। আমরা নিন্দা করতে পারি, প্রতিবাদ করতে পারি, করে যাচ্ছি।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: