চুইংগাম চিবোলে কি একাগ্রতা বাড়ে? যা বলছে গবেষণা
প্রকাশিত:
১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:৪৬
আপডেট:
১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৫৪
খেলার মাঠে প্রায়ই খেলোয়াড়দের চুইংগাম চিবোতে দেখা যায়। ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল সব ধরনের খেলোয়াড়দের মধ্যেই এই অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু এটি কি নিছক অভ্যাস না কি এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান? অনেকে বলে, চুইংগাম চিবোলে কাজে মনোযোগ বাড়ে। এ কথা কি আদৌ সত্য?
বিজ্ঞান বলে, কোনো কিছু চিবোনোর ছন্দ শরীরকে আরাম দেয়। এতে মন স্থির হয়, মানসিক চাপ কমে, মাথা পরিষ্কার থাকে এবং মনযোগও বৃদ্ধি পায়। এসব সুবিধা পেতেই অনেকেই চুইংগাম চিবোতে ভালোবাসেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন ইঙ্গিতই মিলছে।
চুইংগাম চিবোনোর সময় মস্তিষ্কে কী ঘটে?
চুইংগাম চিবানোর সময় মস্তিষ্কের ভেতর কী ঘটে, তা বোঝার জন্য শ্চেচিন বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Szczecin) একদল গবেষক মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার বিশ্লেষণ করেছেন। এই গবেষণায় এমআরআই, ইইজি এবং নিয়ার–ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কপি–সহ নানা প্রযুক্তিতে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, চুইংগাম চিবোনোর ফলে মস্তিষ্কের এমন কিছু অংশের কার্যকলাপ বদলে যায়, যেগুলো মনোযোগ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর নেপথ্যে কিছু মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। আসলে চিবোনোর ছন্দোবদ্ধ ক্রিয়া ব্যক্তিকে সতর্ক রাখে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই কারণে ক্রীড়াবিদরা (অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও) চিবোনোর কাজকে সূক্ষ্ম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। এতে মনোযোগ বাড়ে, মাথাও ঠান্ডা থাকে।
কমে উদ্বেগও:
এছাড়া কোনো কিছু চিবোনোর ক্রিয়া ধীরে ধীরে স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসলের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে কমে উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা। পাশাপাশি, চিবোনোর সময় মুখ আর চোয়াল একনাগাড়ে নাড়াচড়া করে বলে মুখের পেশিতে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। ফলে মস্তিষ্কে বেশি অক্সিজেন পৌঁছায়।
সাধারণত কাজের চাপ বৃদ্ধি পেলে, জনসমক্ষে কথা বলার আগে বা মস্তিষ্ক সক্রিয় না থাকলে অনেকে চুইংগাম চিবিয়ে থাকেন। নর্থউম্বরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল সাইকোলজির গবেষক ক্রিস্টাল হ্যাস্কেল-র্যামসে বলেন, ‘যদি অনেকক্ষণ ধরে কোনো একঘেয়ে কাজ করেন, সেক্ষেত্রে চুইংগাম চিবোনো মনঃসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।’
অবশ্য কেউ কেউ চুইংগাম এড়িয়ে চলার পক্ষপাতী, কারণ এতে কৃত্রিম শর্করা থাকে। তার বদলে বাদাম বা ফলের মতো খাবারও একটানা চিবোনো যেতে পারে। তাতেও একই রকম উপকার হবে। কারণ, উপকারিতার নেপথ্যে আছে চিবোনোর ছন্দ।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: