সোমবার, ৯ই মার্চ ২০২৬, ২৫শে ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানের তেলের ডিপো ও পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে রাজধানী তেহরানজুড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেলের ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কিছু অংশে মিশে গেছে। এর ফলে ইরানের রাজধানীর সব রাস্তা যেন ‘‘আগুনের নদীতে’’ পরিণত হয়েছে। পুরো রাজধানী শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত রাস্তার পাশের সব ড্রেন বর্তমানে দাউ দাউ করে জ্বলছে।
ইরানের সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্ট ‘লিভিং ইন তেহরানের’ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের একটি রাস্তার পাশে আগুন জ্বলছে। পুরো রাস্তার পাশ ঘেঁষে আগুনের লেলিহান শিখা দাউদাউ করে জ্বলছে।
এর আগে, ইরানের তেল মন্ত্রণালয় তেহরানের পশ্চিমের আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি এলাকায় জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরানের তেল স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়েছে এবং আমরা আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তেজনার মুখোমুখি হবো।
ইসরায়েলের রেডিও ১০৩ ব্রডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ক্ষতি করতে সাহায্য করবে; এমন সব লক্ষ্যবস্তুই আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।
যুদ্ধের পরিকল্পিত সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা জানি, যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছি তা অর্জনের জন্য আমাদের কতটুকু সময় প্রয়োজন। যুদ্ধের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটছে। আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাই না যে, আরও এক বা দুই বছর পর আমাদের নতুন কোনও ধাপে যেতে হয়।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৭ জন।
মন্ত্রণালয় বলেছে, হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর, ৪২ জনের অবস্থা মাঝারি এবং ৭০ জন সামান্য আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ইসরায়েলিদের বড় অংশ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় আহত হয়েছেন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)