শুল্ক কমার পরও একমাসে কেজিতে ২৫০ টাকা বেড়েছে খেজুরের দাম!
প্রকাশিত:
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৫
আপডেট:
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৫
পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে পরিচিত খেজুরের দাম এখন আকাশছোঁয়া। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার খেজুর আমদানিতে শুল্ক হার কমালেও এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। গত এক মাসে জাতভেদে খেজুরের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এমনকি নিম্নআয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় সাধারণ মানের খেজুরের দামও কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে দামের এই পার্থক্য আরও প্রকট; কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মূলত শুল্কহার বিবেচনায় খেজুরকে বিলাসবহুল পণ্যের তকমা দেওয়া হয়। তবে, প্রতিবছর রমজান মাসে সর্বসাধারণের জন্য খেজুর কেনার সুবিধার্থে সরকার শুল্কহার কমিয়ে থাকে। এবারও গত ২৩ ডিসেম্বর খেজুরের ওপর শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। শুল্কহার কমায় আমদানি বৃদ্ধি ও দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসার প্রত্যাশা থাকলেও বাজারে ঠিক তার উল্টোটা দেখা যায়। রমজানের আগেই দাম হু হু করে বেড়ে যায়। আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বহুল বিক্রিত খেজুর জাহিদী প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। একমাস আগে এই জাতের খেজুর ২৫০ টাকায় বিক্রি হতো। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে কেজিতে জাহিদী খেজুরের দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। ইরানি মরিয়ম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত। একমাস আগে এই জাতের খেজুর ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকায় বিক্রি হতো। মাসের ব্যবধানে উন্নতমানের ইরানি মরিয়ম খেজুরের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছ। আর কালমি মরিয়ম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়, যা একমাস আগে ৭০০ টাকায় বিক্রি হতো। আর সুক্কারি জাতের খেজুরের দামও মাসের ব্যবধানে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে।
এছাড়া, আজুয়া, বরই, দাবাস, মাবরুম, মেডজুল ও আম্বারাসহ প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম মাসের ব্যবধানে কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি আজুয়া খেজুর ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা, বরই ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দাবাস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাবরুম ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আম্বারা ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মানিকনগরের মুন্না এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মহসিন মোল্লা বলেন, একমাস আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম ১০০ টাকার ওপরে বেড়েছে। সরকার শুল্ক কমালেও সিন্ডিকেট তো ভাঙতে পারেনি। আমরা কম দাম না কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি করবো কীভাবে?
তবে পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বাদামতলীর চেয়ে খুচরা বাজারে ধরনভেদে খেজুরের দাম প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। বহুল বিক্রিত জাহিদী ৫ কেজি খেজুর পাইকারি বাজারে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কেজি দরে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। ইরানি মরিয়ম ৫ কেজি খেজুরের প্যাকেট ৫০০০ টাকা থেকে ৬২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিকেজি ১০০০ থেকে ১২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ৫ কেজি কালমি মরিয়ম ৩৪০০ থেকে ৩৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কেজি দরে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা।
এ বিষয়ে বাদামতলী পাইকারী বাজারের সেসার্স আর এন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. এমদাদুল করিম বলেন, গত একমাসে খেজুরের দাম সামান্য বেড়েছে। তবে, গত বছরের তুলনায় এখনো কম রয়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন সৌদি, ইরানসহ বিভিন্ন দেশে খেজুরের দাম বেশি রয়েছে। তাদের (আমদানিকারকরা) থেকে বেশি দামে কেনায়, আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মানুষ গত বছরের তুলনায় এবার কম দামে খেজুর কিনতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই পাইকারি ব্যবসায়ী।
সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: