বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ই ফাল্গুন ১৪৩২


শরীয়তপুর শহরের ১৪ কিমি জুড়ে এআই প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন

শরীয়তপুর থেকে

প্রকাশিত:২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৩

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

নগরজুড়ে বাড়তে থাকা অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক নিরাপত্তা জোরদারে শরীয়তপুর শহরে আধুনিক এআই প্রযুক্তিনির্ভর সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে জেলা প্রশাসন। প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ১২০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানসহ জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলো এখন সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় এসেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শহরের তিনটি প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন সংযোগপথের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কৌশলগতভাবে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পালং, আংগারিয়া ও মনোহর বাজার—এই তিনটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কলেজ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, বাস টার্মিনাল, আদালত ভবন, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরেও ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কীর্তিনাশা নদী এবং ঢাকা, চাঁদপুর ও মাদারীপুরমুখী সড়ক যোগাযোগের কারণে শরীয়তপুর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। নদীপথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কীর্তিনাশা নদীর কোটাপাড়া এলাকাতেও নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে জল ও স্থল—উভয় পথেই নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সম্প্রতি শহরে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের দুটি দানবাক্স ভেঙে অর্থ লুটের ঘটনা এবং এর আগে নদীতে ডাকাতির সময় গণপিটুনিতে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।

প্রশাসন জানায়, স্থাপিত ক্যামেরাগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনা, যানজট, অগ্নিকাণ্ড, সন্দেহজনক গতিবিধি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংকেত পৌঁছাবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত আধুনিক কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য ব্যবহার করতে পারবে।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। নিয়মিত অভিযান চালিয়েও স্থায়ী সমাধান মিলছিল না। তাই প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পাবে।

প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে পুরো পৌর এলাকা এবং জেলার অন্যান্য পৌরসভায়ও এ ধরনের এআইভিত্তিক সিসিটিভি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে।

সচেতন মহলের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ শরীয়তপুর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নগরবাসীর জন্য আরও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়