সোমবার, ৫ই জানুয়ারী ২০২৬, ২২শে পৌষ ১৪৩২

Shomoy News

Sopno


পটুয়াখালীতে পৌনে ৭ লাখ মেট্রিক টন আমন ফলনের আশা


প্রকাশিত:
৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:৪৭

আপডেট:
৫ জানুয়ারী ২০২৬ ০৯:০৪

ছবি : সংগৃহীত

চলতি মৌসুমে পটুয়াখালী জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের অনুপস্থিতি, সময়মতো বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ায় জেলার ধান উৎপাদন ছাড়িয়ে গেছে জেলা কৃষি অফিসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও। সব মিলিয়ে সোনালী ধানে ভরে উঠেছে মাঠ, আর তাতে স্বস্তি ও আনন্দ ফুটে উঠেছে কৃষকদের মুখে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে-দূরদূরান্ত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে থোকা থোকা পাকা ধান দোল খাচ্ছে বাতাসে। আগের বছরগুলোর তুলনায় এবছর ধানে চিটা কম, ফলন বেশি এবং গাছও হয়েছে স্বাস্থ্যবান। এতে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভের আশা করছেন কৃষকরা।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর আমাগো গেছে বছরগুলার তুলনায় অনেক ভালো ধান হইছে। কোনো বইন্না-বাদল অইছিল না, তাই ফলনও ভালো পাইছি।’

একই এলাকার আরেক কৃষক রুবেল বিশ্বাস বলেন, ‘৮ কাঠা জমিতে ধান দিছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, যা ফলন পাইছি তা আগের সব বছরের চাইতে বেশি। এর আগে আমন ধান এত্ত ভালো কখনো হয় নাই।’

হাসিমাখা মুখে ধান কাটতে কাটতে কৃষক ইলিয়াস বিশ্বাস বলেন, ‘এবার ধানে চিটা খুবই কম। সার-ওষুধে যে টাকা খরচ হইছে, তার চাইতে কয়েক গুণ বেশি লাভ হইবে। পুরো কোলায় (ফসলের মাঠ) তাকাইলে খালি ধান আর ধানই দ্যাহা যায়। সবাই আমরা অনেক খুশি।’

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালী জেলায় আমন ধান আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩.৫৬ মেট্রিক টন। তবে বাম্পার ফলনের কারণে কৃষি বিভাগ ধারণা করছে, হেক্টরপ্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ থেকে ৬ শতাংশ বেশি হতে পারে। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ধান উৎপাদন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টন, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে যাবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ধান উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিপূর্বে জেলায় প্রায় ১৪ হাজার কৃষককে কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। একটি ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তা হয়নি। সার ও ওষুধের সহজলভ্যতাও ছিল। এসব কারণেই জেলাজুড়ে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।’

কৃষি অফিস মনে করছে, এই উৎপাদন শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাই বাড়াবে না, বরং জেলার খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও চালের যোগান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top