বৃহঃস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ই ফাল্গুন ১৪৩০

Rupali Bank


সায়েন্সল্যাবের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল পুরো এলাকা


প্রকাশিত:
৬ মার্চ ২০২৩ ০২:১৩

আপডেট:
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০১:১০

ফাইল ছবি

রাজধানীর সায়েন্সল্যাবের বিস্ফোরণের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিলো পুরো এলাকা। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নয় কেঁপে উঠেছিলো আশপাশের ভবনও। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিস্ফোরণটি সাধারণ নয় বরং শক্তিশালী ছিল।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছেন। প্রায় ১৫ জনের মতো আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতোটায় ছিল যে ভবনসহ আমার চেয়ার কেঁপে উঠেছিলো। পরে বের হয়ে দেখি তিন তলা ভবনটির সামনে মানুষজন পড়ে আছে আর ভেতরে সবকিছু ভেঙেচুরে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, রোববার সকাল ১০ টা ৫০ মিনিটের দিকে সায়েন্সল্যাবের একটি ভবনের তিন তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভবনটির তৃতীয় তলায় ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির অফিসটিতে মূলত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিলো। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত ছিল যে পাশের একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবনও কেঁপে উঠে। এতে আতঙ্কিত হয়ে উঠেন ভবনটির বাসিন্দারা।

ভবনটির সিকিউরিটি গার্ড আব্দুল কাদির বলেন, বিস্ফোরণের সময় ভবনের গেইটে একটি চেয়ারে বসেছিলাম। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতোটায় ছিল যে ভবনসহ আমার চেয়ার কেঁপে উঠেছিলো। আর বিকট শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। এর কিছুক্ষণ পরেই ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নামতে থাকেন। পরে বের হয়ে দেখি তিন তলা ভবনটির সামনে মানুষজন পড়ে আছে আর ভেতরে সবকিছু ভেঙেচুরে গেছে।

হঠাৎ বিকট শব্দে চারদিকে কেঁপে উঠে। পরে দৌড়ে মার্কেটের ভিতর থেকে বের হই। দেখি শিরিন ম্যানশনের তিনতলা উড়ে গেছে। নিচে ৪-৫ জন মানুষ পড়ে আছে।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিল ভবনটির পাশের মার্কেট প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারের দোকানিরা। তাদেরই একজন মো.সানাউল্লাহ ভুঁইয়া। প্রিয়াঙ্গনের শপিং সেন্টারের তার কসমেটিকসের দোকান।

তিনি বলেন, আমি তখন মার্কেটে আমাদের দোকানে বসে নাস্তা করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে চারদিকে কেঁপে উঠে। পরে দৌড়ে মার্কেটের ভিতর থেকে বের হই। দেখি শিরিন ম্যানশনের তিনতলা উড়ে গেছে। নিচে ৪-৫ জন মানুষ পড়ে আছে। তাদের মধ্যে ৩ জনকে দেখে মনে হয়েছে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। পরে কয়েক জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতোটায় ছিলো যে কি বলব, মাথার মধ্যে এখনো সেই শব্দ ঘুরছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা অনেক ছিল। তবে এতে দুর্ঘটনা, নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট। পরে একে একে আসে সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিট, সিআইডির ক্রাইম সিন, পিবিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা। তারা প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ জানার চেষ্টা করছেন।

তদন্তকারী দলগুলো বলছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা অনেক ছিল। তবে এতে দুর্ঘটনা, নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, বিল্ডিংয়ের অবস্থা এখন পর্যন্ত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটির তিনতলায় ছোট ছোট অফিস ছিল এবং একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অফিস ছিল। যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমি মনে করি এই মুহূর্তে ভবনটিতে কারো প্রবেশ করা উচিত হবে না। ঝুঁকি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ বলা যাচ্ছে না। চারটি কারণে এখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। ধারণামতে শর্ট সার্কিট, জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও এসি থেকেও বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে সঠিক কারণটি বলা যাচ্ছে না। সঠিক কারণ তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে।

হতাহতের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে মিলে ১২ থেকে ১৩ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪-৫ জনের অবস্থা গুরুতর। আর শুনেছি ৩ জন মারা গেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top